বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০১:১৫ অপরাহ্ন

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন কুরে কুরে খাচ্ছে ক্যান্সার: বাঁচতে চায় মণিরামপুরের মেধাবী শিক্ষার্থী মিলি
Reporter Name / ২২৭ Time View
Update : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

 

​আবু জাহেদ ইমন
মণিরামপুর থেকে

মিলির ছোট থেকেই আশা ছিল বড় হয়ে ডাক্তার হবার গ্রামের গরিব মানুষের সেবা করার। বাবা মারা যাওয়ার পর মা তার আশা পূরণের চেষ্টা করে আসছে। বর্তমান সেই মিলি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। হয়ত ওর আর কোনোদিন ক্লাসে ফিরবে না?
​ক্লান্ত চোখ আর কান্নায় ভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ক্যান্সারে আক্রান্ত মেধাবী শিক্ষার্থী সামিয়া জামান মিলির মা সেলিনা বেগম। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ এক অন্ধকার ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের এই লড়াকু মেয়েটি।

​মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মিলি। ২০২০ সালে যখন সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তখনই মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া সরে যায়। বাবা নবীরুজ্জামানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি অথৈ সাগরে পড়লেও দমে যায়নি মেধাবী মিলি। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে মেধার স্বাক্ষর রেখে সে স্বপ্ন দেখছিল চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু কয়েকমাস আগে হঠাৎ অসুস্থতা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা নিরীক্ষায় ধরা পড়ে মিলির শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আব্দুল বারীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

​মিলির এমন অবস্থায় ব্যথিত তার কলেজের শিক্ষকরাও। মিলির কলেজের রসায়ন বিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ বাবুল আকতার আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, মিলি শুধু একজন শিক্ষার্থী নয়, সে আমাদের কলেজের সম্পদ। বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়েও তার দখল আছে অসাধারণ। একটি মেধাবী প্রাণ এভাবে অর্থের অভাবে ঝরে যাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এই চিরন্তন সত্যকে সামনে রেখে আজ যদি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে না আসেন, তবে আমরা একজন ভবিষ্যৎ চিকিৎসককে হারাবো।”

  1. ​ইতিমধ্যেই মিলির শরীরে অত্যন্ত ব্যয়বহুল কেমোথেরাপি শুরু হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসার খরচ বহনের মতো সামর্থ্য তার বিধবা মায়ের নেই। জমিজমা বা সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই এই পরিবারের। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, মিলিকে সম্পূর্ণ সুস্থ করতে প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ, যা সংগ্রহ করা এই হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে পাহাড়সম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    মিলি বাঁচতে চায়। সে আবার ফিরে যেতে চায় তার প্রিয় কলেজের ক্লাসরুমে, হাতে তুলে নিতে চায় বই। তার এই অসম লড়াইয়ে সামান্য সহানুভূতি বা সাহায্য হতে পারে একটি জীবনের সঞ্জীবনী সুধা। একটি এতিম মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসবে সরকার ও সমাজের বিত্তবান এমন আশা মিলির।
আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
মণিরামপুরে “আশার চাকা”র উদ্যোগে অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ আবু জাহেদ ইমন মনিরামপুর (যশোর) থেকে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জোঁকা কমলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “আশার চাকা” সংস্থার উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাঁপা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান সমন্বয়ক সোহেল হোসেন। সহকারী সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেহেদী হাসান। অর্থ ও হিসাব দায়িত্বে ছিলেন রাকিবুল হাসান শিমুল এবং ভেন্যু ও লজিস্টিকস দায়িত্বে ছিলেন জুবায়ের আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হুইলচেয়ার বিতরণ সমন্বয়ক সাব্বির আহমেদ রিয়াদ। এছাড়া সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ রানা ও মহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে “আশার চাকা” সংস্থার পক্ষ থেকে ১১ জন অসহায় প্রতিবন্ধীর মাঝে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের মধ্যে ছিলেন ষোলখাদা গ্রামের দাসপাড়ার স্মৃতি দাশ ও অসিম দাশ, হানুয়ার গ্রামের হামেত্তো আলী, ঝাঁপা গ্রামের শওকত আলী, মালঞ্চ বিবি, মমতাজ বেগম, শাহারিয়ার, চন্ডিপুর গ্রামের জিসান হোসেন, মল্লিকপুর গ্রামের ডলি খাতুন, খালিয়া দক্ষিণপাড়ার ইকবাল হোসেন এবং কোমলপুর গ্রামের শামসুরনাহার। বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক দায়িত্ব। “আশার চাকা”র এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উপকারভোগীরা এমন সহায়তা পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
Popular Post
মণিরামপুরে “আশার চাকা”র উদ্যোগে অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ আবু জাহেদ ইমন মনিরামপুর (যশোর) থেকে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জোঁকা কমলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “আশার চাকা” সংস্থার উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাঁপা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান সমন্বয়ক সোহেল হোসেন। সহকারী সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেহেদী হাসান। অর্থ ও হিসাব দায়িত্বে ছিলেন রাকিবুল হাসান শিমুল এবং ভেন্যু ও লজিস্টিকস দায়িত্বে ছিলেন জুবায়ের আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হুইলচেয়ার বিতরণ সমন্বয়ক সাব্বির আহমেদ রিয়াদ। এছাড়া সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ রানা ও মহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে “আশার চাকা” সংস্থার পক্ষ থেকে ১১ জন অসহায় প্রতিবন্ধীর মাঝে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের মধ্যে ছিলেন ষোলখাদা গ্রামের দাসপাড়ার স্মৃতি দাশ ও অসিম দাশ, হানুয়ার গ্রামের হামেত্তো আলী, ঝাঁপা গ্রামের শওকত আলী, মালঞ্চ বিবি, মমতাজ বেগম, শাহারিয়ার, চন্ডিপুর গ্রামের জিসান হোসেন, মল্লিকপুর গ্রামের ডলি খাতুন, খালিয়া দক্ষিণপাড়ার ইকবাল হোসেন এবং কোমলপুর গ্রামের শামসুরনাহার। বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক দায়িত্ব। “আশার চাকা”র এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উপকারভোগীরা এমন সহায়তা পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
Last Update
মণিরামপুরে “আশার চাকা”র উদ্যোগে অসহায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ আবু জাহেদ ইমন মনিরামপুর (যশোর) থেকে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার জোঁকা কমলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “আশার চাকা” সংস্থার উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল সকাল ১০টায় এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝাঁপা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান সমন্বয়ক সোহেল হোসেন। সহকারী সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেহেদী হাসান। অর্থ ও হিসাব দায়িত্বে ছিলেন রাকিবুল হাসান শিমুল এবং ভেন্যু ও লজিস্টিকস দায়িত্বে ছিলেন জুবায়ের আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হুইলচেয়ার বিতরণ সমন্বয়ক সাব্বির আহমেদ রিয়াদ। এছাড়া সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাসুদ রানা ও মহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে “আশার চাকা” সংস্থার পক্ষ থেকে ১১ জন অসহায় প্রতিবন্ধীর মাঝে বিনামূল্যে হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের মধ্যে ছিলেন ষোলখাদা গ্রামের দাসপাড়ার স্মৃতি দাশ ও অসিম দাশ, হানুয়ার গ্রামের হামেত্তো আলী, ঝাঁপা গ্রামের শওকত আলী, মালঞ্চ বিবি, মমতাজ বেগম, শাহারিয়ার, চন্ডিপুর গ্রামের জিসান হোসেন, মল্লিকপুর গ্রামের ডলি খাতুন, খালিয়া দক্ষিণপাড়ার ইকবাল হোসেন এবং কোমলপুর গ্রামের শামসুরনাহার। বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক দায়িত্ব। “আশার চাকা”র এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। উপকারভোগীরা এমন সহায়তা পেয়ে আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পুরাতন খবর

MonTueWedThuFriSatSun
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
       
  12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031